কালবৈশাখীর ছোবল দেশজুড়ে বজ্রপাতে ঝরল ১২ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা ও জেলা প্রতিনিধি
দুপুরের দিকে হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় তাণ্ডব। রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে গাইবান্ধাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন।
খবর নিয়ে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, বগুড়া, নাটোর ও পঞ্চগড়েও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মাঠে ধান কাটার সময় বা রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন এসব মানুষ।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গাইবান্ধায়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে বিকেলে হঠাৎ বজ্রপাতে চারজন গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তাররা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সাঘাটা ও ফুলছড়িতেও হতাহতের খবর মিলেছে। সাঘাটায় গোসল করতে নেমে একজন আহত হয়ে এখন হাসপাতালে লড়ছেন।
মাঠের চিত্রটা বেশ করুণ। সিংড়ার চলনবিল এলাকায় এক কৃষক ধান কাটছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন, “বুঝবারই পারি নাই এমন হবে, মেঘটা ডাকার সাথে সাথেই লোকটা পইড়া গেল।” খোলা জায়গায় কাজ করতে গিয়েই মূলত মৃত্যুর সংখ্যাটা বেড়েছে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে মারা গেছেন দুইজন।
জামালপুরের মেলান্দহে নিজের বাড়ির আঙিনায় রান্নার কাজ করছিলেন মর্জিনা বেগম (৩৫)। রান্নার চুলা থেকে আর ঘরে ফেরা হয়নি তার। বজ্রপাতের বিকট শব্দে তিনি লুটিয়ে পড়েন। এছাড়া বগুড়ার গাবতলীর সোনারাই এলাকায় এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। পঞ্চগড়েও বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট এলাকার হাসপাতাল ও থানা সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে স্পটেই। আহত কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের অবস্থা নিয়েও শঙ্কায় আছেন স্বজনরা। সুন্দরগঞ্জের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানালেন, “আকাশটা যে এমনভাবে চিরে আসবে কেউ ভাবে নাই। হঠাৎ করেই অন্ধকার হয়ে এলো চারপাশ।”
কৃষি ও দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত থাকা মানুষগুলোই মূলত এই পরিস্থিতির শিকার। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালবৈশাখীর এই মৌসুমে মেঘের ঘনঘটা বাড়লে খোলা মাঠ বা বড় গাছের নিচে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু জীবন জীবিকার প্রয়োজনে মাঠে থাকা কৃষকরা সবসময় সেই নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ পান না।
বজ্রপাতের সময় গবাদি পশুরও ক্ষতি হয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। গাইবান্ধার সেই ঘটনার সময় একটি গরুও মারা গেছে বলে জানা গেছে। একে তো স্বজন হারানো শোক, তার ওপর সহায় সম্বল হারিয়ে পরিবারগুলো দিশেহারা।
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারি বিধি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মেঘের গর্জন শুনলেই দ্রুত পাকা দালান বা নিরাপদ ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া জরুরি।


