Economy

অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা

দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন টাকা ছাপিয়ে বাজার গরম করার পথে হাঁটেনি বিএনপি সরকার; বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এই দাবি করেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত এই সভায় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী বাজেটের রূপরেখা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার সহজ রাস্তা বেছে নিইনি। উল্টো আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা কমানোর চেষ্টা করছি।”

গাণিতিক হিসাব দিতে গিয়ে সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যখন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ এবং ‘ওভারড্রাফট’ খাতে সরকারের দেনা ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে, গত ২২ এপ্রিল নাগাদ সেই ঋণের অঙ্ক কমে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১০৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৬ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকার ঋণ শোধ করা হয়েছে।

তবে আলোচনার টেবিলে উঠে আসে ভিন্ন একটি তথ্যও। গত ২৩ এপ্রিল পিআরআই-এর অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান দাবি করেছিলেন যে, মার্চ মাসেই সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা আদতে ‘হাই পাওয়ার মানি’ বা ছাপানো টাকা। এই তথ্যের ফলে বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আতঙ্ক ছড়িয়েছিল।

গভর্নর এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, “দেশের কান্ট্রি রেটিং কমে যাওয়ায় এমনিতেই আমাদের বেসরকারি খাতের ঋণের খরচ বেড়ে গেছে। এমন সময়ে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর খবরটি মোটেও সঠিক নয়। এটি বিভ্রান্তিকর।”

ডেপুটি গভর্নর হাবীবুর রহমানও সুর মেলালেন গভর্নরের সঙ্গে। তার মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের ব্যাংক হিসেবে কাজ করে; সেখানে টাকা জমা হয় আবার প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ হয়। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, “গত দুই বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের কোনো ট্রেজারি বিল বা বন্ড কেনেনি। মার্চে ওভারড্রাফট খাতে ঋণ ২৭ হাজার ৬০১ কোটি টাকা থাকলেও ২২ এপ্রিল তা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এখানে টাকা ছাপানো বা ছিঁড়ে ফেলার কোনো গল্প নেই, মূল হিসাব হলো কারেন্সি ইন সার্কুলেশন বা বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়ছে কি না সেটা দেখা।”

মাঠপর্যায়ের চিত্র অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা স্কুল শিক্ষক মতিউর রহমান বলছিলেন, “সরকার ঋণ শোধ করছে শুনলে ভালো লাগে, কিন্তু বাজারে জিনিসের দাম তো কমছে না। টাকা ছাপানো হোক আর না হোক, আমাদের পকেট থেকে টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে দ্রুত।”

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার যদি সত্যিই ছাপানো টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে থাকে, তবে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা। তবে মাঠের মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আপাতত সরকারের লক্ষ্য, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কান্ট্রি রেটিং উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button