বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বৃদ্ধি
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বৃদ্ধি, ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় স্থবিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা সপ্তম দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এদিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে জুন মাসে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৪৫ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮.৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৮ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৯৬.৯৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় বাজারে এই সরবরাহ সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ট্রেডিং সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৮ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমান অচলাবস্থার কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের বাজারে দরবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে হোয়াইট হাউস তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক দরকষাকষিতে আগ্রহী নয়। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সেক্রেটারি অলিভিয়া ওয়েলস বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর কূটনৈতিক ইস্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, জনসমক্ষে কোনো আলোচনায় না গিয়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন।
বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই আলোচনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আমেরিকান জনগণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। এই শর্তসমূহ পূরণ হওয়া সাপেক্ষে কেবল চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।


